উৎসবের নির্বাচন, নাকি দুর্ভোগের ডিজিটাল দেয়াল?


৩ দিন নেই ডিজিটাল লেনদেন: নিরাপত্তার অজুহাতে নাগরিক অধিকার হরণ কি সঙ্গত?

​বিশেষ প্রতিবেদন | ঢাকা

​দেশে আজ ‘প্রদীপের নিচেই অন্ধকার’ দশা। হাতে স্মার্টফোন আছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আছে, কিন্তু পকেটে নেই নগদ নোট। ফলে পণ্য বা সেবা কিনতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচনী নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে টানা তিন দিন ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ রাখায় থমকে গেছে নাগরিক জীবন। প্রশ্ন উঠেছে—নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের জরুরি আর্থিক অধিকার হরণ করা কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত?

​বর্তমান যুগ ডিজিটাল অর্থনীতির। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে হাসপাতালের জরুরি বিল—সবকিছুই এখন অ্যাপ বা কার্ড নির্ভর। গত তিন দিন ধরে মোবাইল ব্যাংকিং, এটিএম এবং অনলাইন ট্রান্সফার সীমিত বা বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে থাকা রোগীরা।

হাসপাতালের বিল দিতে না পেরে অনেক পরিবারকে অসহায় অবস্থায় পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যারা প্রতিদিনের কেনাকাটা ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে করেন, তারা পড়েছেন তীব্র খাদ্য সংকটে।

​নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই নিরাপত্তা যখন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার বা জরুরি লেনদেনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থাকে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের স্লোগান দেওয়ার পর, স্রেফ নিরাপত্তার অজুহাতে আর্থিক ব্যবস্থার এই ‘শাটডাউন’ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, সেবা বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ করার ফলে মানুষের মধ্যে যেমন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা।

​পকেটে নিজের উপার্জিত টাকা থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারের উপায় না থাকাটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ভবিষ্যতের নির্বাচনী নিরাপত্তায় সাধারণ মানুষের পকেট বা জীবনের ঝুঁকি যেন না বাড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

Post a Comment

0 Comments