নিজস্ব প্রতিবেদক | নীলফামারী
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস ও কারচুপি শিল্পে ভয়াবহ ধস নেমেছে।
গত দুই বছরে এই শিল্পাঞ্চলের প্রায় ১৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী।
মূলত সুতা ও কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী পুঁজিসংকটের কারণেই কারখানাগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।
সৈয়দপুর এক্সপোর্টেবল স্মল গার্মেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইএসজিওএ) এবং স্থানীয় শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে উপজেলায় ছোট-বড় ১৫০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাকি ৫০টি অস্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে।
ফলে এসব কারখানায় কর্মরত বিশাল এক শ্রমিক গোষ্ঠী এখন পুরোপুরি কর্মহীন।
ব্যবসায়ীরা জানান, পাকিস্তান আমল থেকেই সৈয়দপুরে ঝুট কাপড়ভিত্তিক পোশাক উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে। ২০০২ সালের পর থেকে এই শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত ঝুট কাপড় ব্যবহার করে এখানে আন্তর্জাতিক মানের ট্রাউজার, শর্টস, জ্যাকেট, টি-শার্ট ও জিনস প্যান্ট উৎপাদন করা হতো। এই পোশাকগুলোর প্রধান রপ্তানি বাজার ছিল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সুতা ও আনুষঙ্গিক উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সেই তুলনায় বিক্রয়মূল্য না পাওয়ায় এবং ব্যাংক ঋণের সুবিধা না থাকায় পুঁজি হারিয়েছেন অনেক উদ্যোক্তা। সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি বাঁচাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
0 Comments