জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই পোস্টে কর্মজীবী নারীদের ‘পতিতার সমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—এমন বক্তব্য সামনে আসতেই বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং নারী বিদ্বেষের নগ্ন প্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন অনেকে।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা একে নারীদের প্রতি চরম অবমাননা ও মধ্যযুগীয় মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন।
অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এ ধরনের বক্তব্য কিভাবে আসতে পারে।
তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কিছু সময় পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দাবি করেন, তার টুইটার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল। তিনি জানান, তার অ্যাকাউন্টে ‘সেশন অ্যাটাক’ হয়েছে এবং ওই পোস্টটি তিনি দেননি।
তবে এই দাবিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একাত্তর নিউজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাইবার বিশ্লেষকদের একটি অংশ বলছে—সেশন অ্যাটাক হলে সাধারণত ব্যবহারকারী নিজে কোনো পোস্ট দিতে বা অ্যাকাউন্টে সক্রিয় থাকতে পারেন না।
এছাড়া প্রযুক্তিগতভাবে দেখা যায়, একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তা পুনরুদ্ধারে সাধারণত ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে।
এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কিভাবে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই শফিকুর রহমান তার টুইটার অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিয়ন্ত্রণে আনলেন? এই সময়সীমা ও ‘সেশন অ্যাটাক’ দাবির মধ্যে স্পষ্ট গড়মিল রয়েছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
নারীদের প্রতি এমন মন্তব্যে দেশের সাধারণ নারীরা নিজেদের লজ্জিত ও অপমানিত মনে করছেন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি নারীদের নিয়ে এমন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়, তবে ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে ভয়ংকর।”
এ ঘটনায় জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান, নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং হ্যাক দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা—সবকিছুই নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিতর্কের এই প্রেক্ষাপটে দলটির পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা আসেনি।
0 Comments