Thursday, 29 January 2026

নিখোঁজের ৩ দিন পর আ.লীগ নেতা আজিমের লাশ উদ্ধার, এলাকায় উত্তেজনা​



নিখোঁজের ৩ দিন পর আ.লীগ নেতা আজিমের লাশ উদ্ধার, এলাকায় উত্তেজনা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | বেলাবো (নরসিংদী)

​নরসিংদীর বেলাবোতে নিখোঁজের তিন দিন পর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আজিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

আজ নাগের বাজার এলাকার একটি মুরগির খামারের বর্জ্য ফেলার ডোবা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

​নিহত আজিম বেলাবো উপজেলার বাজনাব ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাজনাব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বেলাবো উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন আগে নিখোঁজ হন আজিম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাননি। 
আজ নাগের বাজার এলাকায় একটি মুরগির লেদার (বর্জ্য) ডোবায় লাশটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

​এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। 

তারা বলছেন, একজন উদীয়মান নেতাকে এভাবে হত্যা করা মানবতা ও ন্যায়বিচারের ওপর চরম আঘাত।

​এই ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 
তারা প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

জামিন ছাড়াই হত্যা মামলার ৩ আসামিকে ছেড়ে দিল কারা কর্তৃপক্ষ ।



নিজস্ব প্রতিবেদক | ময়মনসিংহ

​ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিননামা ছাড়াই হত্যা মামলার তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। 
গত মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটলেও আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হয়। এ নিয়ে কারাগারের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​মুক্তি পাওয়া আসামিরা হলেন— আনিছ, জাকিরুল ও রাশেদুল। 

তারা সবাই একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
​কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, দাপ্তরিক কাগজপত্রের ভুলের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। 

তবে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। 
এ ঘটনায় আজ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই তিনজন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। 

মূলত তাদের 'প্রডাকশন ওয়ারেন্ট' বা আদালতে হাজিরার আদেশকে ভুল করে 'জামিননামা' ভেবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

​এই গুরুতর গাফিলতির দায়ে কারাগারের ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

​এদিকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সাংবাদিকরা একাধিকবার ফোন করলেও সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

Wednesday, 28 January 2026

গণভোট প্রচারে ছয় মন্ত্রণালয় বাগিয়ে নিচ্ছে ১৪০ কোটি


সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: নির্বাচনী ব্যয় ছাড়াল ৩ হাজার কোটি টাকা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতিতে সরকারের নির্বাচনী ব্যয় বড় অংকের বৃদ্ধি পেয়েছে। সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের প্রচার যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি ছয়টি মন্ত্রণালয় গণভোটের প্রচারে এবার প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় করছে।

​বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাজেট শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

​ইসি সূত্রে জানা যায়, গণভোটের প্রচারণা চালানোর জন্য এলজিইডি ৭২ কোটি টাকা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি টাকা, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭ কোটি টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে। 

এর মধ্যে চারটি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বরাদ্দ পেয়েছে এবং বাকিগুলোর বরাদ্দ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনসংযোগ শাখা গণভোটের প্রচারে আরও ৪ কোটি টাকা ব্যয় করছে।

​বাজেট শাখা আরও জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য সর্বমোট ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এই বিপুল বাজেটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

​নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে শুধু জাতীয় নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। পরে সংসদ নির্বাচনের একই দিনে গণভোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আরও ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয় সরকার। সব মিলিয়ে বর্তমানে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

​এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোটের ব্যালট পেপার তৈরি, কর্মী নিয়োগ, যাতায়াত ও খামসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাবদ ইসি ব্যয় করছে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গণভোটের পক্ষে প্রচারের জন্য ইসির বরাদ্দ থেকে অর্থ নিয়েছে। 

তবে মন্ত্রণালয়গুলো কীভাবে এবং কাকে দিয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছে, সে বিষয়ে কমিশনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।

সাংবাদিক সমাজ নিয়ে আদালত কক্ষেই ক্ষোভ ঝাড়লেন আনিস আলমগীর ।



নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। তবে গ্রেপ্তারের আদেশ হওয়ার আগে আদালত কক্ষে সহকর্মী ও সাংবাদিক সমাজের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আনিস আলমগীর।

​আইনজীবী নিয়াজ উদ্দিনের কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'একজন সাংবাদিক জেলখানায় আছে অথচ কেউ কিছু লেখেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার নেই। বিনা কারণে আমাকে জেল হাজতে আটকে রাখা হয়েছে, অথচ একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করা হয়নি।'

​এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারাগার থেকে আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। বেলা ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে এজলাসে তোলা হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের জামিন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।

 তার আইনজীবী নাজনীন নাহার তাকে জানান, নির্বাচনের পর আবারো জামিনের চেষ্টা করা হবে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

​উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে বের হওয়ার পর আনিস আলমগীরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। 
পরবর্তীতে 'রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্রের' অভিযোগে আরিয়ান আহমেদ নামে এক ব্যক্তির করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। 

১৫ ডিসেম্বর তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত এবং ২০ ডিসেম্বর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আজ নতুন করে দুদকের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

নির্বাচন ঘিরে স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সতর্কতা: হাসপাতালগুলোকে ৯ দফা নির্দেশনা


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

আসন্ন নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

গত রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে এই ৯ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়। 

এই নির্দেশনা নির্বাচনের আগের দুই দিন এবং পরের তিন দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৯ দফা নির্দেশনা:

১. মেডিক্যাল টিম গঠন: প্রতিটি সিটি করপোরেশনে ৬টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৪টি, জেলা পর্যায়ে ৩টি, উপজেলা পর্যায়ে ২টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি করে বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করতে হবে।

২. জনবল নির্ধারণ: প্রতিষ্ঠান প্রধান বা স্বাস্থ্য প্রশাসক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে টিমের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করবেন।

৩. জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত জনবল: জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।

৪. অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুতি: নির্বাচনী সহিংসতা বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে।

৫. কর্মস্থলে উপস্থিতি: নির্বাচন চলাকালীন প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মস্থলে থাকতে হবে।

৬. বিকল্প কর্মকর্তা: কোনো অনিবার্য কারণে প্রধান কর্মকর্তা ছুটিতে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিকল্প কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগেভাগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।

৭. সমন্বয় ও রেফার: জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। রোগী রেফার করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা ও যথাযথ কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দিয়ে সহায়তা করতে হবে।

৮. সেবা সচল রাখা: কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান একটানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ, ল্যাব, ডায়ালিসিস সেন্টার এবং সিটি স্ক্যান/এমআরআই সেবা যথারীতি খোলা থাকবে।

৯. ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোলরুম: বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় ও সিভিল সার্জন অফিসগুলোতে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোলরুম চালু রাখতে হবে।

কেন এই বিশেষ প্রস্তুতি?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, এটি একটি নিয়মিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। অতীতে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন সহিংসতায় আহত রোগীর চাপ বাড়ার নজির রয়েছে। তাই এবারও যেন চিকিৎসার অভাবে কারও প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্যই এই আগাম প্রস্তুতি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন বিশৃঙ্খলা বা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেটিই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

Tuesday, 27 January 2026

শিল্পাঞ্চলে নীরব হাহাকার: দেড় বছরে বন্ধ ৩২৭ কারখানা, দিশেহারা দেড় লাখ শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাজীপুর ও সাভার 




দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত পোশাক শিল্পে বইছে অস্থিরতার ঝড় । 

গত ১৭ মাসে (২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত) শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ছোট-বড় ৩২৭টি কারখানা । 
এতে কাজ হারিয়ে বেকারত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি শ্রমিক ।

গাজীপুরে বেকারত্বের ক্ষত সবচেয়ে গভীর

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুধু গাজীপুরেই ১৮৮টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে । এর ফলে কাজ হারিয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৭৯ জন শ্রমিক । এর মধ্যে স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ৯০ হাজার ৭৬০ জন ।

বেক্সিমকোর ১৩টি প্রতিষ্ঠানসহ ডার্ড কম্পোজিট, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ক্লাসিক ফ্যাশন এবং নাসা গ্রুপের লিজ ফ্যাশনের মতো বড় বড় নামি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই তালিকায় রয়েছে । 

সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি বন্ধ হয়েছে বেইস ফ্যাশন লিমিটেড ।
সাভার-আশুলিয়া: ছাঁটাই ও কারখানার তালা
সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও চিত্রটি ভয়াবহ । সেখানে মোট ১৩৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ৬৭টি স্থায়ী এবং ৭২টি অস্থায়ীভাবে তালাবদ্ধ । 

বেকার হয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বসুন্ধরা গার্মেন্টস এবং সিঙ্গার রেফ্রিজারেটরের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উৎপাদনের চাকা থমকে গেছে।

কেন এই ধস?

শিল্প পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতে, কারখানা বন্ধের পেছনে একাধিক কারণ দায়ী:

 * জ্বালানি সংকট: গ্যাস ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ত সরবরাহ উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ।

 * আর্থিক সংকট: ব্যাংকিং খাতের অসহযোগিতা ও ঋণের অভাবে মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে ।

 * ক্রয়াদেশ বাতিল: বৈশ্বিক মন্দার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার কমে যাওয়া বা বাতিল হওয়া ।

 * রাজনৈতিক অস্থিরতা: গত কয়েক মাসের টানা অস্থিরতা এবং শ্রমিক অসন্তোষ শিল্প মালিকদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়েছে ।

> শ্রমিকদের আর্তি: > "আগে নির্দিষ্ট তারিখে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন আসত। এখন এক বেলা খেলে অন্য বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। বড় কারখানায় কাজ করার গর্ব এখন শুধুই অতীত।"
> — আলেয়া আক্তার, সাবেক শ্রমিক, নাসা গ্রুপ।

স্থানীয় অর্থনীতিতে ধস ও বাড়ছে অপরাধ

কারখানা বন্ধের প্রভাবে শুধু শ্রমিক নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাড়ির মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও । 
গাজীপুরের কাশিমপুর ও আশুলিয়ার জামগড়ার মতো এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার গ্রামমুখী হওয়ায় বাসা ফাঁকা পড়ে আছে । 

ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি করা মালিকরা এখন দিশেহারা ।
এদিকে, কাজ হারিয়ে শ্রমিকদের একটি অংশ দিনমজুরি বা রিকশা চালনার মতো পেশা বেছে নিলেও, পর্যাপ্ত কাজ মিলছে না । 

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, বেকারত্বের এই অভিশাপ অনেককে বাধ্য করছে অপরাধ জগতের পথে পা বাড়াতে।

উত্তরণের পথ কী?

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের নেতারা বলছেন, নতুন কারখানা গড়ে না ওঠায় এবং চালু কারখানাগুলোতে ছাঁটাই অব্যাহত থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে । 

শিল্প পুলিশ ও ব্যবসায়ী বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সংকট সমাধান এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা দূর না করলে এই বেকারত্বের মিছিল আরও দীর্ঘ হবে ।

Monday, 26 January 2026

পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ।



পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্বমিত্র চাকমা । 

সোমবার (২৬জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’-তে এই ঘোষণা দেন তিনি । সম্প্রতি ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তার নির্দেশে কান ধরে ওঠ-বস করানোর দুইটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিলেন সর্বমিত্র । 

‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় দু:খ প্রকাশ এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামের পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য । দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে । বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে । এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে ।’

ডাকসুর এই সদস্য লেখেন, ‘উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি । প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে । বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে । তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে । নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে । এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে ।’

নিজের পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে সর্বমিত্র বলেন, ‘এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই । এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না । আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ।’

এরপর পদত্যাগের ঘোষণায় লেখেন, ‘একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয় । আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি । প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে ,আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।

নির্বাচনের দিন ও আগে যেকোনো সহিংসতার দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে : অন্তর্বর্তী সরকার



আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকেই বহন করতে হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচন বানচাল করতে সহিংসতা, নাশকতা বা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে । নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও জানানো হয় ।

Sunday, 25 January 2026

মেজো ভাই হাদির সন্তানকে যুক্তরাজ্য নিয়ে যেতে চান, হাদির স্ত্রীর ‘না’


 

মেজো ভাই হাদির সন্তানকে যুক্তরাজ্য নিয়ে যেতে চান, হাদির স্ত্রীর ‘না’





যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ পেয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মেজ ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি।


এখনও তিনি যোগদান করেননি। যাওয়ার আগে শহীদ হাদির একমাত্র সন্তান ফিরনাস ইবনে ওসমান হাদিকেও সেখানে নিতে চান তিনি। তবে শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা তাতে আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, ফিরনাসকে সবাই নিতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।


তবে তার বাবা একজনই, তিনি শহীদ ওসমান হাদি।


শনিবার ফেসবুকে আলাদা আলাদাভাবে পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তারা। ইতিমধ্যে তাদের এসব পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।


জানা যায়, প্রথমে শরীফ ওমর বিন হাদি তার ছোট ভাই শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির একটি ছবি দিয়ে লেখেন, আমি ওসমান হাদির ভাই প্রমাণ করার মতো একটা ছবি পেয়েছি।


ভাই তোমরা হাদির যা ছিল সব নিয়ে নাও। এমনকি তার বউকে নিয়ে নাও, শুধু আমার সন্তানটা আমাকে দিয়ে দেও প্লিজ। নিরাপদ বসবাসের জন্য তাকে নিয়ে আমি যুক্তরাজ্যে চলে যাবো।


প্যারোলে জুয়েলের মুক্তির আবেদন করা হয়নি, বলছে যশোর জেলা প্রশাসন

এরপর শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা সেই পোস্টটি শেয়ার দিয়ে লেখেন, মেজ ভাইয়া ওসমান হাদির বউ কোনো প্রোডাক্ট না যে কেউ চাইলেই নিয়ে নিবে।


আর ফিরনাসরে সবাই নিয়ে নিতেই চাইবে এটাই স্বাভাবিক। বাই দা ওয়ে ফিরনাসের বাবা একজনই শহীদ ওসমান হাদি।

এদিকে, পরিবারের ভেতরের এই মতবিরোধ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়া। অনেকে বিষয়টিকে পারিবারিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন।


জানা গেছে, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে ওমর বিন হাদিকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। ২০ ডিসেম্বর তার জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন ।

বগুড়ায় গভীর রাতে দই ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

 


বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় গভীর রাতে এক দই ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে দম্পতিকে মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। পালানোর সময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের আকন্দপাড়া গ্রামে দই ব্যবসায়ী ভক্তরাম বিশ্বাসের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর ছেলে পঙ্কজ বিশ্বাস জানান, রাত দুইটার পর গোয়ালঘর থেকে গরুর ডাক শুনে তিনি ঘরের দরজা খুলে বাইরে বের হন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫–১৬ জনের একটি ডাকাত দল জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা তার বাবা ভক্তরাম বিশ্বাস ও মা সবিতা রানী দাসকে মারধর করে ঘরে থাকা সিন্দুক ভেঙে নগদ দুই লাখ টাকা এবং প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণের গহনা লুট করে নেয়।

তিনি আরও জানান, ডাকাতরা শুধু তাদের ঘর নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়ির দরজাও বাইরে থেকে আটকে দেয়, যাতে কেউ বের হয়ে সাহায্য চাইতে না পারে। পরিবারের চিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা আতঙ্ক ছড়াতে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পাশের একটি ফাঁকা মাঠ থেকে ককটেল তৈরির কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনিছুর রহমান জানান, ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।

এ ঘটনায় ভক্তরাম বিশ্বাসের পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয় সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু ও তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী পরিবারগুলো নানা অপরাধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।