নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
গত রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে এই ৯ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়।
এই নির্দেশনা নির্বাচনের আগের দুই দিন এবং পরের তিন দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৯ দফা নির্দেশনা:
১. মেডিক্যাল টিম গঠন: প্রতিটি সিটি করপোরেশনে ৬টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৪টি, জেলা পর্যায়ে ৩টি, উপজেলা পর্যায়ে ২টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি করে বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করতে হবে।
২. জনবল নির্ধারণ: প্রতিষ্ঠান প্রধান বা স্বাস্থ্য প্রশাসক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে টিমের সদস্য সংখ্যা নির্ধারণ করবেন।
৩. জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত জনবল: জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।
৪. অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুতি: নির্বাচনী সহিংসতা বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে।
৫. কর্মস্থলে উপস্থিতি: নির্বাচন চলাকালীন প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মস্থলে থাকতে হবে।
৬. বিকল্প কর্মকর্তা: কোনো অনিবার্য কারণে প্রধান কর্মকর্তা ছুটিতে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিকল্প কর্মকর্তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর আগেভাগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে হবে।
৭. সমন্বয় ও রেফার: জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। রোগী রেফার করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা ও যথাযথ কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দিয়ে সহায়তা করতে হবে।
৮. সেবা সচল রাখা: কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান একটানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ, ল্যাব, ডায়ালিসিস সেন্টার এবং সিটি স্ক্যান/এমআরআই সেবা যথারীতি খোলা থাকবে।
৯. ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোলরুম: বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় ও সিভিল সার্জন অফিসগুলোতে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোলরুম চালু রাখতে হবে।
কেন এই বিশেষ প্রস্তুতি?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, এটি একটি নিয়মিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। অতীতে নির্বাচনের সময় বিভিন্ন সহিংসতায় আহত রোগীর চাপ বাড়ার নজির রয়েছে। তাই এবারও যেন চিকিৎসার অভাবে কারও প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্যই এই আগাম প্রস্তুতি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন বিশৃঙ্খলা বা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেটিই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।
No comments:
Post a Comment